‘আওয়ামী লীগের পরাজয় মানে দেশে ফের রক্তের বন্যা’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ‘এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় মানে বাংলাদেশে ফের রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়া। আমাদের পরাজয় মানে ২০০১ এক সালের অন্ধকার। আমরা কী সে সন্ত্রাস দুর্নীতির অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই?’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্বাচনী বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুলকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনাদের এমন কি কাজ আছে যেটা দেখে মানুষ ভোট দেবে। আছে হাওয়া ভবন আর খাম্বা। তাদের দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের কারণে মানুষ আর তাদের চায় না। ’

তিনি বলেন, ‘দুই একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি আমরা দিয়ে দেবো। আজ সেটা শুরু হবে, কালকের মধ্যে সেটা শেষ হবে। নির্বাচনে মহাজোট থেকে আমরা প্রার্থী দিয়েছি, তারা বিপুল ভোটে জয়ী হবে। তবে আত্মতুষ্ট হওয়ার মতো পরিবেশ নেই।’

‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। দলের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। ক্ষমতায় আসলে সম্মান দেয়া হবে।’

কাদের আরো বলেন, ‘বিএনপি তাদের মনোনয়নে বাণিজ্য করেছে। অনেকে মনোনয়ন না পেয়ে টাকার জন্য নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। অনেক নেতা নাকি পালিয়েও গেছে।

আপিলেও টিকল না মীর নাসিরের প্রার্থিতা :

বিএনপির হেভিওয়েট নেতা চট্টগ্রাম -৫ আসনের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাসিরের প্রার্থিতা আপিলেও খারিজ হয়ে গেছে। মামলা সংক্রান্ত কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্ন বিরতির আগে মীর নাসিরের আপিল শুনানি শুরু হলেও পরে তারটা স্থগিত রাখা হয়। বিরতির পর শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তবে ইসির এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। নাসির দাবি করেন, তার এ রায় পূর্বপরিকল্পিত।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে শুনানি চলছে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি করছেন। এজলাসে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও উপস্থিত রয়েছেন।

প্রার্থিতা বাতিলের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মীর নাসির বলেন, ‘এখানে তামাশা করা হচ্ছে। তাদের সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত। আমারটা একেবারে রিজেক্ট করে দিয়েছে। পেন্ডিং রাখলেও তো হতো। আগেই ভেবেছিলাম এখানে এসে সঠিক বিচার পাওয়া যাবে না। আমাদের মতো বাইরের লোকদের এখানে ডেকে তামশা মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। সব কিছু পূর্বপরিকল্পিত।’

চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে বিএনপির তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। অন্য দু‘জন হলেন- মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ও সাকিল ফারজানা। হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্রও মীর নাছিরের মতো বাতিল হয়েছে। আর সাকিল ফারজানাই এ আসনে বিএনপির বৈধ প্রার্থী।

জানা গেছে, নির্বাচনের জন্য ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে রিটানিং কর্মকর্তারা ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। এক শতাংশ ভোটার না থাকায়, ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়নপত্র, লাভজনক পদে থাকার জন্য, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায়, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায়, ঋণ খেলাপির অভিযোগে, দণ্ডপ্রাপ্ত এবং অন্যান্য কারণে এদের মনোনয়নয়ন বাতিল করা হয়।

আগামীকাল শুক্র ও শনিবারও শুনানি হবে। এ নির্বাচনে ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। এবং আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ।

মির্জা আব্বাসের মনোনয়ন বাতিল :

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করে কমিশন।

মির্জা আব্বাসের আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মির্জা আব্বাস আপিল করবেন বলেও জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করতে ইসিকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে মির্জা আব্বাসের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার একেএমন এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে থাকা ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করতে বলা হয়।

পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-৯ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে না পাঠিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে রেখে দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, যুগ্ম সচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। মঙ্গলবার মির্জা আব্বাসের করা আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।
গত ২৮ নভেম্বর ঢাকা-৯ আসন থেকে চেষ্টা করেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। ১ ডিসেম্বর এটি নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দেয়া হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্রটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে ওই মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই সম্পন্নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের রিট করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ের পর ঢাকা-৯ আসনে মির্জা আব্বাসের পক্ষে তার সমর্থকরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। কিন্তু তা নিতে অস্বীকার করা হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, মির্জা আব্বাসের ছবি দেখেই শেষদিনে মনোনয়নপত্র জমা নিতে গড়িমসি করেন রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। তবে, নির্বাচনী কর্মকর্তারা দাবি করেন, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসায় তা জমা নেয়া সম্ভব হয়নি।

ঢাকা-৯ আসন থেকে মির্জা আব্বাসের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, বিকেল সাড়ে ৪টায় তারা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে হাজির হন। কাগজপত্র তৈরি করতে কিছুটা সময় লেগেছে। কিন্তু, ইচ্ছাকৃতভাবে তার মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দাবি, যারা মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় বিকেল ৫টার মধ্যে অফিস কম্পাউন্ডে ছিলেন, তাদেরগুলো নেওয়া হয়েছে। মির্জা আব্বাসের মনোনয়নপত্র নিয়ে তার সমর্থকরা সময় শেষ হওয়ার পর আসায়, তা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরে গত ১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মির্জা আব্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *