আওয়ামী লীগ একের পর এক আচরণবিধি ভঙ্গ করছে -রিজভী

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একের পর এক নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আচরণবিধি ন্যূনতম অনুসরণ করছেন না। এ বিষয়ে পুরোপুরি নির্বিকার সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আচরণবিধিমালা ১৪ (২) ভঙ্গ করে শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত প্রামান্য চিত্র ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’ ডকুমেন্টরি ফিল্মটি চারটি সিনেমা হলে মুক্তি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে একজন প্রার্থী। শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেই কারণে ইতিহাসের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এককেন্দ্রীকভাকে উপস্থাপন করা হয়েছে-যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, আচরণবিধিতে বলা আছে-এধরণের কোন কর্মকা- পরিচালনা করা যাবে না। এতে প্রচারণা শুরুর আগেই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে। নিজে প্রার্থী হয়ে নিজেই কিভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করেন তা বোধগম্য নয়। রিজভী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালার ১২ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোন প্রকার প্রচার শুরু করা যাবে না। একই সঙ্গে বিধিমালার ১০ (ঙ) ধারানুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কোন বক্তব্য দেয়া যাবে না।

এই ডকুমেন্টরি ফিল্মটি কি প্রচারণামূলক নয়? বিধিমালার ৭-এ পোস্টার ব্যহারের বিধি-নিষেধও আছে। সেখানে বলা আছে-সিটি কর্পোরেশন এবং পৌর এলাকার কোথাও পোস্টার সাঁটানোর কোন সুযোগ নেই। অথচ ডকুফিল্মটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অর্থাৎ সিনেমা হলগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত পোস্টারসহ রীতিমতো মহড়া আকারে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

ধানম-ির সুধাসদনে অবস্থিত সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পক্ষে ডকুফিল্মটি প্রযোজনা করেছেন রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিকী ববি ও বিদ্যূৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। ঢাকঢোল পিটিয়ে এসব করা হলেও নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এছাড়াও বিভিন্ন টেলিভিশন ও রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে সিটি কর্পোরেশনের স্থাপিত টিভি স্ক্রিনে শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকা- প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আচরণবিধি ভঙ্গের অসংখ্য প্রমাণ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ন্যূনতম লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী হয়নি। বরং আচরণবিধি লঙ্ঘন না করলেও পরিকল্পিতভাবে ঘটনা তৈরী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হচ্ছে বিরোধী দলের ওপর।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়-এসব কর্মকা- চলতে থাকলে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অবিলম্বে শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুফিল্মটি সিনেমা হলগুলো থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান রিজভী। তিনি বলেন, কোনভাবেই নির্বাচনকালীন সময়ে এসব প্রচারণা চালানো যাবে না। পাশাপাশি গণভবনকেও নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন কেন এসব বিষয়ে দ্রুত আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারের প্রতি নতজানু বলেই নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করতে কমিশন আগ্রহী নয়।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, আসাদুল করিম শাহীন প্রমূখ।

দৈনিক ইনকিলাব

জাঞ্জুয়া ও ফালু অধ্যায় বাদ দিয়ে খালেদার জীবনী, মোড়ক উন্মোচন কাল

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর বই লেখা হচ্ছে, নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। বিদেশি লেখকরাও লিখছেন তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব এবং প্রজ্ঞা নিয়ে, কীভাবে তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছেন একটি সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যতের দিকে। একই পথে হাঁটছে বিএনপিও। দলের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি ও সাংবাদিকদের দিয়ে লেখানো হচ্ছে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বই।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জীবনী নিয়ে তারই প্রেক্ষিতে বই লিখেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ। ৭০০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে তিনি তুলে এনেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের গল্প। গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে কারাবাস— সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রীর জীবনের এসব ঘটনার অনেক অজানা কথা জানা যাবে এ বইয়ে। ইংরেজি ভাষায় রচিত বইটির নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’।

তবে বিশেষ নির্দেশে এই বইতে খালেদার ব্যক্তিজীবনের বেশ কিছু অধ্যায় কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি ঘনিষ্ট সূত্র। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে খালেদাকে পাকিস্থানি জেনারেল জাঞ্জুয়ার কবল থেকে উদ্ধারে জিয়াউর রহমান কর্তৃক ৪ বার মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠানোর পরেও খালেদার না যাওয়ার বিষয়টি, মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর সাথে ঘনিষ্টতা ইত্যাদি স্পর্শকাতর বিষয় এই বইতে উঠে আসেনি বলে জানা গেছে।

বইটির লেখক সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘বেসিক্যালি এই বইটা করা হয়েছে খালেদা জিয়ার জীবন ও জীবনের গল্প নিয়ে। কিছু ব্যক্তিগত বিষয় বাদ দিয়ে শুধু তার রাজনৈতিক সংগ্রাম তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার উত্থানের গল্প আছে বইটিতে। এই গ্রন্থে খালেদা জিয়ার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আগামীকাল রবিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানের হোটেল লেকশোরে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল, লায়লা এন ইসলাম, নিউজ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, ইকতেদার কবীর, আনোয়ার হাশিম প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।

‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত তুলে ধরেছেন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুল কীভাবে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহবধূর দায়িত্ব ছেড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল— বিএনপির গুরুদায়িত্ব নেন— এসবের বর্ণনা আছে বইটিতে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর প্রায় ৭ মাস পর দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বানে ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে তার আগমন এবং ‘আপসহীন’ নেতৃত্ব, সামরিক এরশাদ সরকার বিরুদ্ধে টানা ৮ বছরের সংগ্রাম শেষে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার গল্পগুলো তুলে এনেছেন মাহফুজউল্লাহ।

তার লেখা এ বইয়ে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে ওই সময়ের ঘটনা ও ঘটনার আড়ালের গল্প। ১৯৯১-এর আগে রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন এবং ২০০৬ সাল পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে খালেদা জিয়ার জেলজীবন বইটির বড় অংশজুড়ে রয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার গত কয়েক বছরে দলের নেতৃত্ব, ২০১৫ সালের তিন মাসের অবরোধ, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন মাস অবস্থান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবাস— এসব ঘটনা এ বইয়ে তুলে আনতে পারেননি সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ।

এর কারণে জানালেন মাহফুজউল্লাহ নিজেই, বললেন, ‘এই কাজটি তো অনেক বছর ধরে করছি। ৭০০ পৃষ্ঠার বই, দীর্ঘ সময়। এর মধ্যে সর্বশেষ কেয়ারটেকার সরকারের সময় পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে।’ সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন। ওই বইটির নাম ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ: আ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি’।

মাহফুজউল্লাহ জানান, খালেদা জিয়ার প্রকাশিতব্য বইটি তার সর্বশেষ জীবনীগ্রন্থ। এরপর তিনি আর কোনও ব্যক্তির জীবনী নিয়ে লিখবেন না।

somoyekhon

খালেদা জিয়াকে জেল দেয়া বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করবো: বঙ্গবীর

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, বাংলাদেশে এত বড় কারাগার নেই যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যায়। যে টাকা তছরূপ হয়নি সেই ২ কোটি টাকার জন্য বিচারক বেগম খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছেন। আমরা ওই বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

ভোট ডাকাতি দিবস পালন উপলক্ষে শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে তার বাসভবনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, আমি নির্বাচনই করতে চাই না। সারাদেশ ঘুরে শেখ হাসিনাকে দেখতে চাই তিনি নৌকা নিয়ে কতদূর যেতে পারেন। তিনি একাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা নন, আমিও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পুত্র। আমার গায়ে বঙ্গবন্ধুর রক্ত না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রয়েছে।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বঙ্গবীর বলেন, আজকের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক আপনাদের না! ধানের শীষ এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আমরা যখন চলে যাবো সেদিন আপনাদের প্রতীক হবে।

এসময় তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবার নির্বাচন।

তিনি আরো বলেন, অনেক কথা শুনেছি। শেষ পর্যন্ত রাজাকারের খেতাব পেয়েছি। তাই গত ছয় বছরে আমি শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ ও গণভবনে যাইনি। ৭৫’র প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মিলনমেলার বিষয়ে কথা বলতে গণভবনে যাওয়ার জন্য ৯ বার ফোন করে ব্যর্থ হয়েছি। পরে চিঠিও লিখেছি কিন্তু জবাব পাইনি। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পর ওনাকেই (শেখ হাসিনা) আমাকে চিঠি লিখতে হবে।

সভায় স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আতোয়ার রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতিক, জেলা সভাপতি এ্যাড. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আব্দুল হালিম সরকার, মীর জুলফিকার শামীম বক্তব্য দেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মোহাম্মদ হাবীব, বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, শরীফ হোসেন পাপ্পুও বক্তব্য দেন।

শরীরে বঙ্গবন্ধুর রক্ত না থাকলেও আদর্শ রয়েছে : কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, আমি নির্বাচনই করতে চাই না, সারাদেশ ঘুরে শেখ হাসিনাকে দেখাতে চাই তিনি তলাফাটা নৌকা নিয়ে কতদূর যেতে পারেন।

তিনি একাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা নন আমিও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ছেলে। আমার গায়ে বঙ্গবন্ধুর রক্ত না থাকলেও তার আদর্শ রয়েছে।

‘ভোট ডাকাতি দিবস’ পালন উপলক্ষে শনিবার বিকেলে সখীপুর পৌরসভায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে এতো বড় কারাগার নেই, যেখানে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যায়। যে টাকা তছরুপ হয়নি, সেই দুই কোটি টাকার জন্য যে বিচারক খালেদা জিয়াকে জেল দিয়েছেন ওই বিচারকেরও একদিন বিচার হবে। আমিই ওই বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করব। আগামী নির্বাচন অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, অনেক কথা শুনেছি, শেষ পর্যন্ত রাজাকারের খেতাব পেয়েছি। তাই গত ছয় বছরে আমি শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ ও গণভবনে যাইনি। ৭৫’র প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মিলনমেলার বিষয়ে কথা বলতে গণভবনে যাওয়ার জন্য নয়বার ফোন করে ব্যর্থ হয়েছি। পরে চিঠিও লিখেছি, কিন্তু জবাব পাইনি। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পর ওনাকেই (শেখ হাসিনা) আমাকে চিঠি লিখতে হবে।

সভায় উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আতোয়ার রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতিক, জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আব্দুল হালিম সরকার লাল, মীর জুলফিকার শামীম, বিএনপি নেতা শেখ মোহাম্মদ হাবীব, বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, শরীফ হোসেন পাপ্পু প্রমুখ।

১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে প্রতিবছর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ‘ভোট ডাকাতি দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

নয়া পল্টনে সংঘর্ষ: আইজিপির তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবে ইসি

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

চট্টগ্রাম নগরের আঞ্চলিক লোক প্রশাসনের মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, ‘রাজধানী নয়া পল্টনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। ওইদিনের ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে পুলিশের আইজিকে ইসি থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের চিঠির জবাবের প্রেক্ষিতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় যারা মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর অর্থাৎ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে তারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরকারি কোনো গাড়ি কিংবা প্রটোকল ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে নির্বাচনী এলাকার বাইরে সরকারি কাজে তার সুযোগ-সুবিধা নিতে পারবেন।’

বিভিন্ন দলের নির্বাচন পেছানোর দাবি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। ৩০ ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। আশা করছি, সব দলের অংশগ্রহণে সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।’

ইভিএম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরসহ সারাদেশের শহরাঞ্চলের কিছু স্থানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তবে কোন কোন স্থানে ব্যবহার হবে সেই ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বাংলাদেশি নাগরিক কিংবা ভোটার— যারা বাইরের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, তাদের ভোটার করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কমিশনের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাইরের একটি দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ভোটার করার জন্য একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তী সময়ে অন্যসব দেশেও এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

‘মান্নার আসনে’ জামায়াতের ‘হানা’ কারন যা জানা গেল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়ার যে আসন থেকে নির্বাচন করতে চান, সেখানে জামায়াতে ইসলামীও প্রার্থী দিতে চাইছে। বগুড়ায় মোট দুটি আসনে প্রার্থী দিতে চায় স্বাধীনতাবিরোধী দলটি, তার মধ্যে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটিও আছে। এই আসন থেকে মান্না ভোটে দাঁড়িয়েছেন মোট তিনবার। এর মধ্যে দুবার নৌকা প্রতীক নিয়ে এবং একবার অন্য একটি দলের হয়েছে। কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি। আর যে বছর নৌকা ছাড়া দাঁড়িয়েছেন, সে বছর হারিয়েছেন জামানত।

আসনটিতে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলেই বেশ ভালো ভোট আছে। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপিকে হারিয়েও দেয় জামায়াত। ১৯৯৬ সালেও তারা দ্বিতীয় হয়, ওই বছর তাদের ভোট আর বাড়েনি, যদিও বিএনপির ভোট বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়। এরপর ২০০১, ২০০৮ সালেও জয় পায় বিএনপি। তবে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালে আসনটিতে জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জেতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

এই আসনে এবার মান্নার ধানের শীষের প্রতীক পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংস্কারপন্থী তকমা পাওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে অবস্থান হারান এবং ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাননি। এরপর আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে গঠন করেন নাগরিক ঐক্য আর ১৩ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে জোটেও যান মান্না।

এই জোট গঠনের পর থেকেই নাগরিক ঐক্যের নেতার বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে। অবশ্য তিনি ওই আসনের পাশাপাশি ঢাকাতেও একটি আসনে মনোনয়নের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপির আরেক জোট ২০ দলের শরিক জামায়াতের শাহাদাতুজ্জামান শিবগঞ্জ আসনে প্রার্থী হতে এরই মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। তবে এখনো জমা পড়েনি কাগজ। এ সময় জামায়াতের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মান্নার আসনে জামায়াতের মনোনয়ন ফরম তোলায় শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। আবার মান্নাকে ছেড়ে দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও কীভাবে নেয়, সেটি নিয়েও আছে প্রশ্ন। এই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের। তিনি জিতেছেন বিএনপিকে হারিয়েই। ফলে জামায়াত মান্নাকে ছেড়ে কথা বলবে নাÑঢাকা টাইমসকে বলেছেন দলটির একজন নেতা।

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঢাকায় বড় নেতা (মান্না) হলেই এলাকায় ভোট পাওয়া যায় না। ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।’ জোটগতভাবে যদি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করেবে কি নাÑএমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে চুপ থাকেন জামায়াত নেতা।

মান্নার আসনে জামায়াতের ভোটের প্রস্তুতিকে সুযোগ হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ। আসনটিতে দলটির ভোট ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী জোটে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তাকে কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করছে দলটি। আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ অবশ্য আবার জোট থেকে সমর্থন পাওয়ার আশায়। যদিও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে। আর আওয়ামী লীগ এবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চাইছে এখানে।

জামায়াতের দাবি আরও আছে শিবগঞ্জ ছাড়াও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে জামায়াত নেতা ও কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে শেরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান দবিবুর রহমান মনোনয়নপত্র তুলেছেন। জামায়াত নেতারা জানান, জেলার সাতটি আসনের মধ্যে চারটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। এর মধ্যে অন্তত দুটিতে ছাড় দেওয়ার জোর দাবি করছেন তারা।

উৎসঃ dhakatimes24

বিএনপি টেস্ট ম্যাচে হেরে গেছে : হাছান

বিএনপি টেস্ট ম্যাচে হেরে গেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, তারা একদিকে নির্বাচন পিছিয়ে নেওয়ার দাবি করে অন্যদিকে নয়াপল্টনের সামনে পুলিশের ওপর হামলা করে টেস্ট ম্যাচ খেলতে চেয়েছিল কিন্তু তারা সেই টেস্ট ম্যাচে হেরে গিয়েছে।

শনিবার (১৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভাসানী আয়োজিত ‘মাওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিনা উস্কানিতে তাদের নেতাকর্মীরা কিভাবে পুলিশকে কিল, ঘুষি মারছিলেন, কিভাবে পুলিশের ঘাড়িতে আগুন লাগিয়েছিলেন, কিভাবে পথচারীদের উপর হামলা চালাচ্ছিলেন তাদের চেহারা যে টেলিভিশনের ক্যামেরা এবং পথচারীদের হাতে থাকা মোবাইলের ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে গেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব তা বুঝতে ভুল করেছিলেন। তাই তিনি তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করে বললেন আওয়ামী লীগের হেলমেট বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হেলমেট বাহিনীর নেতা হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।’ এসময় তিনি মির্জা ফখরুলের বিভিন্ন সময় হেলমেট পরে নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে যাওয়ার ছবিও সাংবাদিকদের দেখান।

মিথ্যা বলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব চ্যাম্পিয়ন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকে। তার মিথ্যাচার শুনে আমার লজ্জা হচ্ছে যে একজন ভদ্রবেশী মানুষ কিভাবে এতো মিথ্যা বলতে পারে? সুতরাং মিথ্যা বলায় যদি কোন পুরস্কার দেওয়া হতো নিঃসন্দেহে চ্যাম্পিয়ন হতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব।’

বিএনপিকে অনুরোধ জানিয়ে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নানা ছলছুতায় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করে কোন লাভ হবে না। সুতরাং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার যে প্রক্রিয়া আপনারা শুরু করেছেন তা অব্যাহত রাখুন এবং আসুন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভীতকে আমরা শক্তিশালী করি।’

এসময় তিনি নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সমস্ত রহস্য উৎঘাটনের জন্য পুলিশবাহিনী ও জনগনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পুলিশকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘যারা এই নিয়ে মিথ্যাচার করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

বঙ্গদীপ এম এ ভাসানীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুলসহ ন্যাপ ভাসানীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

খালেদাকে মুক্তি দিন, ভোটের মাঠে আসতে দিন: সরকারকে ড.কামাল

কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘যেহেতু একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এতোদিন পরে হতে যাচ্ছে তাতে একটা দলের নেত্রী সরকারের প্রধান থাকবেন আর আরেক দলের নেত্রীকে সেই সেন্ট্রাল জেলে রেখে অপমান করা হবে এটা একদমই মেনে নেয়া যায় না।’

ড. কামাল বলেন, ‘ওনাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা দরকার। যাতে উনি তার নেতাদের নিয়ে দেশের মানুষের কাছে গিয়ে নির্বাচনে ভোট চাইতে পারেন। আমি সরকারকে বলবো- প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে এসে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তাকে ভোটের মাঠে আসতে দিন।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তো খালেদা জিয়া জেলে নাই। হাজার হাজার লোককে জেলে রাখা হয়েছে। আমি প্রতিদিনই শুনছি গ্রেফতারের কথা। এভাবে বৈষম্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না, সাংবিধানিক শাসনও থাকবে না। দেশ একটা অরাজকতার মধ্যে পড়বে। এজন্য বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া দরকার।’

শনিবার (১৭ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আইনজীবীদের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

পরিস্থিতি যা-ই হোক আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন না করার ঘোষণা দেন ড.কামাল।

তিনি বলেন, ‘সবাইকে হাতজোড় করে বলবো, এবার আর বয়কট ঠয়কট আমরা করবো না। একবার ভোট বয়কট করে আমাদের যে খেসারত দিতে হয়েছে এটা যাতে আর না হয়।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ভোট নিয়ে সরকার যত রকমের দশ নম্বরি আছে করুক, আমরা ভোট দেবো। আপনারা তৈরি হোন। আমরা হাজারে হাজারে গিয়ে ভোট দেবো।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দ্রুত আমরা নির্বাচন চাই। অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠ নির্বাচন চাই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই ন্যায়সঙ্গত। দেশের একটি বিরোধী দলের প্রধান ছিলেন তিনি। তাকে এভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা যায় না।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে এমপি পরিচয় দেয়া ভাওতাবাজি।’

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সকলের মতামত উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকা ব্যবহার করে কেন ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। এই সরকারের বড় ঘাটতি হলো দেশ ১৬ কোটি মানুষের, কিন্তু এরা পাঁচজন মিলে যা মনে করেন তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। জাতীয় নীতির তোয়াক্কা না করে তারা এসব করছে।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৭ জন বিচারপতি মিলে একটা রায় দিলেন, কিন্তু কথা শুনতে হলো সিনহা সাহেবকে। এতো লজ্জা আমি জীবনে পাইনি, যেদিন দেখেছি কোনও একজন মন্ত্রী হবে কিনা জানিনা- যিনি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বলেছিলেন ‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছিল?’’

ড. কামাল বলেন, ‘‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছিল’-একজন প্রধান বিচারপতিকে কেউ এভাবে বলতে পারে না। সে যেই হোক। যে এসব কথা বলেছে তার আদালত অবমাননা এখনো হতে পারে।’

যে ব্যক্তি এসব কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে হালকাভাবে নেওয়া উচিত না। আজ হোক কাল হোক এসব বলে কেউ পার পাবে না।’

ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি, গত ৫ বছর দেশ যেভাবে শাসিত হয়েছে এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, আমি জানি না।’

তিনি বলেন, ‘২০১৪ তে একটা নির্বাচন হয়েছিল। পরে এ যখন কোর্টে আসলো অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আমাকে ডেকেছিল। কোর্ট জিজ্ঞেস করেছিল আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন, আমি বললাম, মূল্যায়ন করলে তো দুই মিনিটেই বলা যায় যে এটা কোনো নির্বাচনই ছিল না। আরেকটা নির্বাচন করতে হবে। সরকার তো বলছে দ্রুত আরেকটা নির্বাচন করবে। সরকারের পক্ষের লোকই সেখানে বলেছে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটা সরকার করে নেওয়া হয়েছে, আমরা সকলের সঙ্গে আলোচনা করছি যেন, দ্রুত একটা নির্বাচন করা যায়।’

ড. কামাল বলেন, ‘আমিও স্বাভাবিকভাবেই মনে করেছি সরকার যখন কোর্ট দাঁড়িয়ে এরকম একটা কথা বলছে তখন দ্রুতই আরেকটা নির্বাচন হবে। তখন আমি কোর্টকে বললাম আমার কিছু বলতে হবে না, তারা তো নিজেরাই বলছে যে, একটি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য করেছে, তারাও এটাকে ডিফাইন করতে পারছে না, বলছে দ্রুত আরেকটা নির্বাচন দিবে। কিন্তু দ্রুত মানে কি ৫ বছর?’

তিনি বলেন, ‘সরকার এত হালকা হয়ে গেছে যে, তারা নিজেরাই তাদের কথার অর্থ বোঝে না। নইলে দ্রুত নির্বাচন মানে কি পাঁচ বছর? আজ আমি জানতে চাই। যারা আজ সরকারের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা দেখেন ২০১৪ তে দাঁড়িয়ে আপনারা কী বলেছিলেন। যদি কথাগুলো মনে না থাকে তাহলে কোর্টের অর্ডার বের করে দেখেন।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের দেশ। এই দেশে সরকার যদি কোনও কথা বলে তবে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হয়। ১৬ কোটি মানুষকে যা-তা বলে পাঁচ বছর ধরে তারা শাসন শোষণ বজায় রেখেছে।’

“সংবিধানের মৌলিক কথা হচ্ছে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। কিন্তু জনগণ যদি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে তাদের ক্ষমতা না প্রয়োগ করাতে পারে তাহলে স্বাধীনতার উপরে আঘাত দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন থাকে না। এই দেশটাকে পরাধীন দেশ বানাতে দিতে পারি না। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই স্বাধীনতার অর্থ হলো জনগণ এই ক্ষমতার মালিক”- যোগ করেন ড. কামাল।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করলাম। এটা খেলার কথা না। এবং আমরা তাদের উত্তরসূরি হিসেবে এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না, শহীদের রক্তের সাথে আমরা বেইমানি করতে পারি না। যারা আমাদের দেশের মালিক করে গেল, মালিক হিসেবে নিঃস্ব হয়ে, কেউ ক্ষমতা আত্মসাৎ করে যেনতেনভাবে আমাদের জনগণকে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করছে, আমাদের সুশাসন থেকে বঞ্চিত করছে, সাংবিধানিক শাসন থেকে বঞ্চিত করে যেনতেনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। এটা কি আমরা মেনে নিতে পারি?’

জানলে অবাক হবেন … সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে : মির্জা আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সত্য কথা বলায়, সত্য রায় দেয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়েছে। তিনি আজ বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আইনজীবীদের মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমি শ্রদ্ধার কথা স্মরণ করে বলতে চাই, দেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এই বন্ধাত্বের যুগে, যখন কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না, সত্য বলে না, তখন এই মানুষটি দাঁড়িয়েছিলেন, প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি সত্য রায় দিয়েছিলেন, সত্য বলেছিলেন। এজন্য সরকার তাকে জোরজবরদস্তি করে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের বক্তব্যে বিচারপতি সিনহার কথা উল্লেখ না করায় মর্মাহত হয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি আশা করেছিলাম আপনারা আজ তাকে স্মরণ করবেন। কিন্তু কেউ সেটি করলেন না। আমাদের সবার উচিত তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানানো্ এবং তিনি যে কথাগুলো উচ্চারণ করে গেছেন সেগুলো বারবার বলা উচিত।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব আইনজীবীদের আন্দোলন নামার আহবান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে মানুষ আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত হবে।

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট বার প্রাঙ্গণে হওয়া মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক জয়নুল আবেদীন।

প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা, গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাহজাহান ওমর, চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানা উল্লাহ মিয়া প্রমুখ

ব্রেকিং নিউজ ……. ভয় পেয়ে ভুল করছে সরকার : ডা. জাফরুল্লাহ

মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, মানুষ ভয় পেয়ে ভুল করে, সরকারও তাই করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা আদায় করে নেব। দাবি আদায় করতে হবে।

শনিবার সকাল পৌঁনে ১০ টায় টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন ঐক্যফ্রন্টের কয়েকজন নেতা। শ্রদ্ধা জানানোর পর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মওলানা ভাসানীর মাজারে কি কামাল হোসেন আগে এসেছিলেন? আজ এসেছেন। এ থেকে নতুন বাতাস শুরু হয়েছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগীদের সঠিক সম্মান করব। কর্ণেল মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজ উদ্দিনদের মূল্য অস্বীকার করে স্বাধীনতা হয় না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন নির্ভেজাল ও সৎ মানুষ। টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে উৎসাহের কিছুটা ঘাটতি দেখা গেছে।