বিএনপির রুহুল কুদ্দুস তালকুদার গ্রেফতার

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। বুধবার সকালে গুলশানের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান।

জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘শেরেবাংলা নগর থানায় দুলুর বিরুদ্ধে একটি নাশকতার মামলা ছিল। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতারের জন্য আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

নাটোর-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাওয়া বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়ন বাতিল করেছিল রিটার্নিং কর্মকর্তা। টুকু রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও ব্যর্থ হয়ে পরে যান হাইকোর্টে। হাইকোর্ট তার প্রার্থিতা ফিরে দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন-

চেম্বার আদালতে আটকে গেল টুকু ও দুলুর ভোটযাত্রা
হাই কোর্টের আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ ফের আটকে গেছে।

বিএনপির দণ্ডিত দুই নেতার ভোটের পথ খুলল হাই কোর্টে

ফলে অন্য প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচারে নেমে গেলেও এই দুই সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আপাতত ভোটের মাঠে নামা হচ্ছে না।

হাই কোর্ট টুকু ও দুলুর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার আদেশ দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল নির্বাচন কমিশন।

সেই আবেদনের শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী মঙ্গলবার হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে ইসির আবেদনটি বুধবার শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

চেম্বার আদালতে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে শুননি করেন আজমালুল হোসেন কিউসি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলমাহবুবে আলম।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসনে এবং দুলু নাটোর-২ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনে আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

নির্বাচন কমিশনে আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর টুকুর আসনে তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এবং দুলুর আসনে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠায় বিএনপি।

এই অবস্থায় হাই কোর্টে গিয়ে নিজেদের পক্ষে আদেশ পান সাবেক বিএনপি সরকারের এই দুই প্রতিমন্ত্রী।

তাদের রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

পাশাপাশি দুলু ও টুকুর মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ওই দুই আসনে দলের কোনো বিকল্প প্রার্থী থাকলে এবং তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাইলে সেই সুযোগও দিতে বলা হয়।

হাই কোর্টের আদেশের পর টুকুর আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেছিলেন, “ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছিলো। হাই কোর্টে আপিল করে তিনি খালাস পান। পরে দুদক আপিল করলে আপিল বিভাগ পুনশুনানির জন্য মামলাটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠায়।

“হাই কোর্টে ২০০৯ সালে যখন এসেছিলাম, তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুসারে কনভিকশন ও সেনটেন্স সাসপেন্ড করেছিলেন হাই কোর্ট। এ অর্ডারটা এখনো বহাল আছে। এর প্রেক্ষিতে আজকে জিতলাম।”

আর দুলুর অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ আল আশাফুর আলী রাজা বলেছিলেন, “আজকের আদেশের ফলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। নিম্ন আদালতে উনার দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে দণ্ড হয়েছিল। সেটা হাই কোর্টে সাসপেন্ড হয়ে আছে।”

আরও পড়ুন-

আদেশ স্পষ্ট করতে খালেদার ফাইল ফের হাই কোর্টে

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রশ্নে হাই কোর্টের আদেশটি স্পষ্ট করতে মামলার ফাইল বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাই কোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারকের মতামত স্পষ্টভাবে ফাইলে আসেনি। এ কারণে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি স্পষ্ট করতে বেঞ্চে পাঠিয়েছেন।

বুধবার হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে ফাইল পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দিলে সেখানেই খালেদা জিয়ার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ দেয়।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিতয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে খালেদার ভোটের ভাগ্য আটকে যায়।

হাই কোর্টের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু দুইজন বিচারপতি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি, সেজন্য এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি পরবর্তী বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। আইনগত অবস্থা যা দাঁড়াল, এখন পর্যন্ত উনি (খালেদা জিয়া) কোনো আদেশ প্রাপ্ত হননি।”

অন্যদিকে খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি, তৃতীয় বেঞ্চে আমরা ন্যায় বিচার পাব, সঠিক সিদ্ধান্ত পাব।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতারা আশা করছিলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তিনি ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সে অনুযায়ী তাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু নভেম্বরের শেষে হাই কোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এর ফলে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার আপিল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আটকে যায়।

এরপর ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে দুই বছরের বেশি সাজার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেওয়া হয়। খালেদার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও বিফল হন। এরপর তারা রিট আবেদন নিয়ে আসেন হাই কোর্টে।

ঢাকায় বিজয় র‌্যালি করবে ঐক্যফ্রন্ট

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিজয় র‌্যালি করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক নেতাদের যৌথসভা হয়। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘যৌথসভায় আমরা দুটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আাগামী ১৪ ডিসেম্বর যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন এবং আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপন।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ ১৪ তারিখ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং কালো পতাকা টাঙানো হবে। আমরা সকাল ৮টায় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যাব। পুষ্পকস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাব। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে আমাদের মহান বীরদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাব, সেখান থেকে ফিরে আমরা শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত করব। ওইদিনই বিকেল ৩টায় মহান বিজয় দিবসের বিজয় র‌্যালির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘র‌্যালি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মগবাজার পর্যন্ত যেতে চাই। তবে রাস্তা সংস্কারের কারণে যতদূর যাওয়া যায় ততদূর যাব। বিজয় র‌্যালি হবে শান্তিপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশান চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে বিজয় দিবসের আগের রাতে আলোকসজ্জা করা হবে।’

বুধবার সিলেটে শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে বলেও জানান নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার প্রধান হিসেবে নজরুল ইসলাম খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে দায়িত্ব দেয়া হয় বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর এবং নোয়খালীতে মওদুদ আহমদের নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় মহাসচিবের ওপর আক্রমণ করা হয়। খানিকক্ষণ আগে কথা বলেছি হাজার মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করছে, এখন থমথমে নয়, গমগমে অবস্থা।’

এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল বলেন, ‘সরকার এবং সরকারি দলের লোকেরা পুলিশের সহায়তায় কিংবা ছত্রচ্ছায়ায় যে নির্যাতন, অন্যায় আচরণ করছে তার নিন্দা জানাই। তাদের এই আচরণ আমাদের ভীত সন্ত্রস্ত করছে না। তাদের আমরা জানি। এই সরকারের অধীনে আগেও আমাদের জীবন কাটাতে হয়েছে। এবার তারা এত গুম খুন করেছে, এ জন্য তারা ক্ষমতা হারাতে ভয় পায়। এসব করে তারা বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরাতে চায়। আমাদের মহাসচিবের ওপর আক্রমণ করার পর যা হয়েছে। এরপর আবার হলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, এটা ঘটবে।’

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন-

চেম্বার আদালতে আটকে গেল টুকু ও দুলুর ভোটযাত্রা
হাই কোর্টের আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ ফের আটকে গেছে।

বিএনপির দণ্ডিত দুই নেতার ভোটের পথ খুলল হাই কোর্টে

ফলে অন্য প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচারে নেমে গেলেও এই দুই সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আপাতত ভোটের মাঠে নামা হচ্ছে না।

হাই কোর্ট টুকু ও দুলুর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার আদেশ দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল নির্বাচন কমিশন।

সেই আবেদনের শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী মঙ্গলবার হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে ইসির আবেদনটি বুধবার শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

চেম্বার আদালতে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে শুননি করেন আজমালুল হোসেন কিউসি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলমাহবুবে আলম।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসনে এবং দুলু নাটোর-২ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনে আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

নির্বাচন কমিশনে আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর টুকুর আসনে তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এবং দুলুর আসনে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠায় বিএনপি।

এই অবস্থায় হাই কোর্টে গিয়ে নিজেদের পক্ষে আদেশ পান সাবেক বিএনপি সরকারের এই দুই প্রতিমন্ত্রী।

তাদের রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

পাশাপাশি দুলু ও টুকুর মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ওই দুই আসনে দলের কোনো বিকল্প প্রার্থী থাকলে এবং তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাইলে সেই সুযোগও দিতে বলা হয়।

হাই কোর্টের আদেশের পর টুকুর আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেছিলেন, “ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছিলো। হাই কোর্টে আপিল করে তিনি খালাস পান। পরে দুদক আপিল করলে আপিল বিভাগ পুনশুনানির জন্য মামলাটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠায়।

“হাই কোর্টে ২০০৯ সালে যখন এসেছিলাম, তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুসারে কনভিকশন ও সেনটেন্স সাসপেন্ড করেছিলেন হাই কোর্ট। এ অর্ডারটা এখনো বহাল আছে। এর প্রেক্ষিতে আজকে জিতলাম।”

আর দুলুর অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ আল আশাফুর আলী রাজা বলেছিলেন, “আজকের আদেশের ফলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। নিম্ন আদালতে উনার দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে দণ্ড হয়েছিল। সেটা হাই কোর্টে সাসপেন্ড হয়ে আছে।”

আরও পড়ুন-

আদেশ স্পষ্ট করতে খালেদার ফাইল ফের হাই কোর্টে

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রশ্নে হাই কোর্টের আদেশটি স্পষ্ট করতে মামলার ফাইল বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাই কোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারকের মতামত স্পষ্টভাবে ফাইলে আসেনি। এ কারণে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি স্পষ্ট করতে বেঞ্চে পাঠিয়েছেন।

বুধবার হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে ফাইল পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দিলে সেখানেই খালেদা জিয়ার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ দেয়।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিতয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে খালেদার ভোটের ভাগ্য আটকে যায়।

হাই কোর্টের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু দুইজন বিচারপতি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি, সেজন্য এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি পরবর্তী বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। আইনগত অবস্থা যা দাঁড়াল, এখন পর্যন্ত উনি (খালেদা জিয়া) কোনো আদেশ প্রাপ্ত হননি।”

অন্যদিকে খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি, তৃতীয় বেঞ্চে আমরা ন্যায় বিচার পাব, সঠিক সিদ্ধান্ত পাব।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতারা আশা করছিলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তিনি ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সে অনুযায়ী তাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু নভেম্বরের শেষে হাই কোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এর ফলে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার আপিল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আটকে যায়।

এরপর ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে দুই বছরের বেশি সাজার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেওয়া হয়। খালেদার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও বিফল হন। এরপর তারা রিট আবেদন নিয়ে আসেন হাই কোর্টে।

চেম্বার আদালতে আটকে গেল টুকু ও দুলুর ভোটযাত্রা

হাই কোর্টের আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ ফের আটকে গেছে।

বিএনপির দণ্ডিত দুই নেতার ভোটের পথ খুলল হাই কোর্টে

ফলে অন্য প্রার্থীরা প্রতীক নিয়ে প্রচারে নেমে গেলেও এই দুই সাবেক প্রতিমন্ত্রীর আপাতত ভোটের মাঠে নামা হচ্ছে না।

হাই কোর্ট টুকু ও দুলুর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার আদেশ দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল নির্বাচন কমিশন।

সেই আবেদনের শুনানি করে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী মঙ্গলবার হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে ইসির আবেদনটি বুধবার শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

চেম্বার আদালতে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে শুননি করেন আজমালুল হোসেন কিউসি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলমাহবুবে আলম।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে টুকু সিরাজগঞ্জ-২ আসনে এবং দুলু নাটোর-২ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনে আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

নির্বাচন কমিশনে আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর টুকুর আসনে তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এবং দুলুর আসনে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠায় বিএনপি।

এই অবস্থায় হাই কোর্টে গিয়ে নিজেদের পক্ষে আদেশ পান সাবেক বিএনপি সরকারের এই দুই প্রতিমন্ত্রী।

তাদের রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে।

পাশাপাশি দুলু ও টুকুর মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ওই দুই আসনে দলের কোনো বিকল্প প্রার্থী থাকলে এবং তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাইলে সেই সুযোগও দিতে বলা হয়।

হাই কোর্টের আদেশের পর টুকুর আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেছিলেন, “ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছিলো। হাই কোর্টে আপিল করে তিনি খালাস পান। পরে দুদক আপিল করলে আপিল বিভাগ পুনশুনানির জন্য মামলাটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠায়।

“হাই কোর্টে ২০০৯ সালে যখন এসেছিলাম, তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুসারে কনভিকশন ও সেনটেন্স সাসপেন্ড করেছিলেন হাই কোর্ট। এ অর্ডারটা এখনো বহাল আছে। এর প্রেক্ষিতে আজকে জিতলাম।”

আর দুলুর অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ আল আশাফুর আলী রাজা বলেছিলেন, “আজকের আদেশের ফলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই। নিম্ন আদালতে উনার দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক আইনে দণ্ড হয়েছিল। সেটা হাই কোর্টে সাসপেন্ড হয়ে আছে।”

আরও পড়ুন-

আদেশ স্পষ্ট করতে খালেদার ফাইল ফের হাই কোর্টে

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রশ্নে হাই কোর্টের আদেশটি স্পষ্ট করতে মামলার ফাইল বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাই কোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারকের মতামত স্পষ্টভাবে ফাইলে আসেনি। এ কারণে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি স্পষ্ট করতে বেঞ্চে পাঠিয়েছেন।

বুধবার হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে ফাইল পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দিলে সেখানেই খালেদা জিয়ার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ দেয়।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিতয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে খালেদার ভোটের ভাগ্য আটকে যায়।

হাই কোর্টের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু দুইজন বিচারপতি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি, সেজন্য এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি পরবর্তী বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। আইনগত অবস্থা যা দাঁড়াল, এখন পর্যন্ত উনি (খালেদা জিয়া) কোনো আদেশ প্রাপ্ত হননি।”

অন্যদিকে খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি, তৃতীয় বেঞ্চে আমরা ন্যায় বিচার পাব, সঠিক সিদ্ধান্ত পাব।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতারা আশা করছিলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তিনি ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সে অনুযায়ী তাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু নভেম্বরের শেষে হাই কোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এর ফলে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার আপিল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আটকে যায়।

এরপর ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে দুই বছরের বেশি সাজার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেওয়া হয়। খালেদার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও বিফল হন। এরপর তারা রিট আবেদন নিয়ে আসেন হাই কোর্টে।

আরও পড়ুন-

দেখি কী হয়, খালেদাকে নিয়ে রিজভী

হাই কোর্টের বিভক্ত আদেশে খালেদা জিয়ার একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঝুলে গেলেও আশা ছাড়ছে না বিএনপি।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

মঙ্গলবার আদালতের আদেশের পর নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। আমরা দেখি এর শেষ অবস্থা কোথায়।”

আদালতের বিভক্ত আদেশের পেছনে সরকারের ‘কারসাজি’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির পর মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ আসে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এখন নিয়ম অনুযায়ী এ মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এখন তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

আদালতের আদেশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “এটা সুস্পষ্টই যে, পেছনে সরকার কলকাঠি নাড়ছে। নাহলে দ্বিধা-বিভক্ত রায় হবে কেন?”

রিজভী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যেকোনো আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়াবেন এবং বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের বলতে পারি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভোট পাবেন তার এক তৃতীয়াংশও শেখ হাসিনা পাবেন না।

“সেই কারণে আজকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে যে বিলম্ব ঘটানো- এটা সরকারের কারসাজি, তাদেরই ইঞ্জিনিয়ারিং।”

প্রতীক বরাদ্দের পর জামালপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। এছাড়া চাঁদুপর, ঢাকা নগর উত্তর ও দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, ভোলা, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে সোমবার গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকাও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে মাজারে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা, প্রচার শুরু সেখান থেকে

হযরত শাহজালাল ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারতে ‍সিলেটে যাচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সেখান থেকেই তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হচ্ছে।

বুধবারই তারা সিলেটে যাচ্ছেন বলে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পর তিনি বলেন, “আগামীকাল বুধবার সিলেটে হযরত শাহ জালাল ও হযরত শাহ পরানের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করব। সব সময় তাই করা হয়। আমাদের নেত্রী যখন ছিলেন উনিও তাই করতেন। আমরাও সেটা করব ইনশাল্লাহ।

“আমরা আশা করছি যে, আগামীকাল ড. কামাল হোসেন সাহেব যাবেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমি যাব। জেএসডির আ স ম আবদুর রব, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সাহেব যাবেন।”

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। ঢাকা ছাড়াও সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তবে ‘অসুস্থতার’ জন্য রাজশাহীতে যাননি তিনি।

সিলেটে মাজার জিয়ারতের পর তারা শহরে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান।

নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সকালে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১১ আসনে শামীম আরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালান। চট্টগ্রামে আব্দুল্লাহ আল নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও প্রচারে যোগ দিয়েছেন। এর বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের পাশাপাশি ঢাকাসহ আশপাশের প্রার্থী এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ছিলেন বৈঠকে।

এছাড়া ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আহমেদ, গাজীপুর-২ আসনের সালাহ উদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৪ আসনের শাহ রিয়াজুল হান্নান, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের আবদুল হাই, ঢাকা-১৪ আসনের সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিকী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় শোভাযাত্রা করবে ঐক্যফ্রন্ট

বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটা সভা করে দুটি বিষয় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উপযাপন করব।

“১৪ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় আমরা মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করব। ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাব।

“সেখান থেকে ফিরে বিএনপির প্রোগ্রাম আছে- শেরেবাংলা নগরে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করব। বিকাল ৩টায় আমরা মহানগর বিজয় দিবসের র‌্যালি করব। এটি হবে শান্তিপূর্ণ সুশৃঙ্খল ও বর্ণাঢ্য।”

বিজয় দিবস উপলক্ষে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং পুরানা পল্টনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যালয়ে আলোকসজ্জা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন-
দেখি কী হয়, খালেদাকে নিয়ে রিজভী
হাই কোর্টের বিভক্ত আদেশে খালেদা জিয়ার একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঝুলে গেলেও আশা ছাড়ছে না বিএনপি।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

মঙ্গলবার আদালতের আদেশের পর নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। আমরা দেখি এর শেষ অবস্থা কোথায়।”

আদালতের বিভক্ত আদেশের পেছনে সরকারের ‘কারসাজি’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির পর মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ আসে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এখন নিয়ম অনুযায়ী এ মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এখন তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

আদালতের আদেশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “এটা সুস্পষ্টই যে, পেছনে সরকার কলকাঠি নাড়ছে। নাহলে দ্বিধা-বিভক্ত রায় হবে কেন?”

রিজভী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যেকোনো আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়াবেন এবং বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের বলতে পারি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভোট পাবেন তার এক তৃতীয়াংশও শেখ হাসিনা পাবেন না।

“সেই কারণে আজকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে যে বিলম্ব ঘটানো- এটা সরকারের কারসাজি, তাদেরই ইঞ্জিনিয়ারিং।”

প্রতীক বরাদ্দের পর জামালপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। এছাড়া চাঁদুপর, ঢাকা নগর উত্তর ও দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, ভোলা, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে সোমবার গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকাও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন-

ভোটের প্রচারের শুরুতে টুঙ্গীপাড়ার পথে শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নিজের সংসদীয় আসন থেকে ভোটের প্রচার শুরু করতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার পথে রওনা হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

বুধবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে ঢাকার গণভবন থেকে রওনা হয় শেখ হাসিনার গাড়িবহর। সড়কপথে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে গিয়ে ফেরার পথে বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রায় একডজন জনসভা ওপথসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তার কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, টুঙ্গীপাড়া পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এরপর বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা সদরে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজমাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন।

টুঙ্গীপাড়া ও কোটালীপাড়া মিলিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ থেকেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ হাসিনা; এ আসন থেকে তিনি সংসদে গেছেন ছয়বার।

এবার নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ ছাড়াও শ্বশুরবাড়ির আসন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পরে রংপুরের আসনটি তিনি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেন।

টুঙ্গীপাড়ায় প্রচার শেষে বৃহস্পতিবার সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। ফেরার পথে প্রায় ১০টি পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন।

ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের মোড়, রাজবাড়ী রাস্তারমোড় (রাজবাড়ী জেলা), আরোয়া ইউনিয়ন, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ (ধামরাই) ও সাভারের জালেশ্বর মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসব পথসভা হওয়ার কথা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এই নির্বাচনী সফর নিয়ে কোটালীপাড়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “নেত্রীর আগমন উপলক্ষে সারা এলাকা এখন মুখরিত। সবাই এখন এটা নিয়েই আলোচনা করছে। কোটালীপাড়াকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।”

জনসভার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে।

১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে এ সভায় অংশ নেবে। জনসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

আদেশ স্পষ্ট করতে খালেদার ফাইল ফের হাই কোর্টে

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বৈধতা প্রশ্নে হাই কোর্টের আদেশটি স্পষ্ট করতে মামলার ফাইল বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাই কোর্ট বেঞ্চের দুই বিচারকের মতামত স্পষ্টভাবে ফাইলে আসেনি। এ কারণে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিষয়টি স্পষ্ট করতে বেঞ্চে পাঠিয়েছেন।

বুধবার হাই কোর্ট বেঞ্চ থেকে ফাইল পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দিলে সেখানেই খালেদা জিয়ার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি করে মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ দেয়।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিতয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে খালেদার ভোটের ভাগ্য আটকে যায়।

হাই কোর্টের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “যেহেতু দুইজন বিচারপতি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি, সেজন্য এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি পরবর্তী বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন। আইনগত অবস্থা যা দাঁড়াল, এখন পর্যন্ত উনি (খালেদা জিয়া) কোনো আদেশ প্রাপ্ত হননি।”

অন্যদিকে খালেদার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করছি, তৃতীয় বেঞ্চে আমরা ন্যায় বিচার পাব, সঠিক সিদ্ধান্ত পাব।”

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর এবং জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের দণ্ড নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতারা আশা করছিলেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তিনি ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। সে অনুযায়ী তাকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ এবং বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা।

কিন্তু নভেম্বরের শেষে হাই কোর্টে এক মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিলে ওই দণ্ড বাতিল বা স্থগিত হয়।

এর ফলে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতার আপিল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আটকে যায়।

এরপর ২ ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে দুই বছরের বেশি সাজার কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দেওয়া হয়। খালেদার আইনজীবীরা ওই সিদ্ধান্ত বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও বিফল হন। এরপর তারা রিট আবেদন নিয়ে আসেন হাই কোর্টে।

আরও পড়ুন-
দেখি কী হয়, খালেদাকে নিয়ে রিজভী
হাই কোর্টের বিভক্ত আদেশে খালেদা জিয়ার একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঝুলে গেলেও আশা ছাড়ছে না বিএনপি।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

মঙ্গলবার আদালতের আদেশের পর নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। আমরা দেখি এর শেষ অবস্থা কোথায়।”

আদালতের বিভক্ত আদেশের পেছনে সরকারের ‘কারসাজি’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির পর মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ আসে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এখন নিয়ম অনুযায়ী এ মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এখন তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

আদালতের আদেশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “এটা সুস্পষ্টই যে, পেছনে সরকার কলকাঠি নাড়ছে। নাহলে দ্বিধা-বিভক্ত রায় হবে কেন?”

রিজভী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যেকোনো আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়াবেন এবং বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের বলতে পারি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভোট পাবেন তার এক তৃতীয়াংশও শেখ হাসিনা পাবেন না।

“সেই কারণে আজকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে যে বিলম্ব ঘটানো- এটা সরকারের কারসাজি, তাদেরই ইঞ্জিনিয়ারিং।”

প্রতীক বরাদ্দের পর জামালপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। এছাড়া চাঁদুপর, ঢাকা নগর উত্তর ও দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, ভোলা, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে সোমবার গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকাও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন-

ভোটের প্রচারের শুরুতে টুঙ্গীপাড়ার পথে শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নিজের সংসদীয় আসন থেকে ভোটের প্রচার শুরু করতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার পথে রওনা হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

বুধবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে ঢাকার গণভবন থেকে রওনা হয় শেখ হাসিনার গাড়িবহর। সড়কপথে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে গিয়ে ফেরার পথে বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রায় একডজন জনসভা ওপথসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তার কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, টুঙ্গীপাড়া পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এরপর বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা সদরে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজমাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন।

টুঙ্গীপাড়া ও কোটালীপাড়া মিলিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ থেকেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ হাসিনা; এ আসন থেকে তিনি সংসদে গেছেন ছয়বার।

এবার নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ ছাড়াও শ্বশুরবাড়ির আসন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পরে রংপুরের আসনটি তিনি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেন।

টুঙ্গীপাড়ায় প্রচার শেষে বৃহস্পতিবার সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। ফেরার পথে প্রায় ১০টি পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন।

ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের মোড়, রাজবাড়ী রাস্তারমোড় (রাজবাড়ী জেলা), আরোয়া ইউনিয়ন, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ (ধামরাই) ও সাভারের জালেশ্বর মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসব পথসভা হওয়ার কথা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এই নির্বাচনী সফর নিয়ে কোটালীপাড়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “নেত্রীর আগমন উপলক্ষে সারা এলাকা এখন মুখরিত। সবাই এখন এটা নিয়েই আলোচনা করছে। কোটালীপাড়াকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।”

জনসভার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে।

১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে এ সভায় অংশ নেবে। জনসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

দেখি কী হয়, খালেদাকে নিয়ে রিজভী

হাই কোর্টের বিভক্ত আদেশে খালেদা জিয়ার একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঝুলে গেলেও আশা ছাড়ছে না বিএনপি।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

মঙ্গলবার আদালতের আদেশের পর নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। আমরা দেখি এর শেষ অবস্থা কোথায়।”

আদালতের বিভক্ত আদেশের পেছনে সরকারের ‘কারসাজি’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির পর মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ আসে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এখন নিয়ম অনুযায়ী এ মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এখন তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

আদালতের আদেশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “এটা সুস্পষ্টই যে, পেছনে সরকার কলকাঠি নাড়ছে। নাহলে দ্বিধা-বিভক্ত রায় হবে কেন?”

রিজভী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যেকোনো আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়াবেন এবং বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের বলতে পারি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভোট পাবেন তার এক তৃতীয়াংশও শেখ হাসিনা পাবেন না।

“সেই কারণে আজকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে যে বিলম্ব ঘটানো- এটা সরকারের কারসাজি, তাদেরই ইঞ্জিনিয়ারিং।”

প্রতীক বরাদ্দের পর জামালপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। এছাড়া চাঁদুপর, ঢাকা নগর উত্তর ও দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, ভোলা, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে সোমবার গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকাও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন-

ভোটের প্রচারের শুরুতে টুঙ্গীপাড়ার পথে শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নিজের সংসদীয় আসন থেকে ভোটের প্রচার শুরু করতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার পথে রওনা হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

বুধবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে ঢাকার গণভবন থেকে রওনা হয় শেখ হাসিনার গাড়িবহর। সড়কপথে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে গিয়ে ফেরার পথে বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রায় একডজন জনসভা ওপথসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তার কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, টুঙ্গীপাড়া পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এরপর বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা সদরে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজমাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন।

টুঙ্গীপাড়া ও কোটালীপাড়া মিলিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ থেকেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ হাসিনা; এ আসন থেকে তিনি সংসদে গেছেন ছয়বার।

এবার নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ ছাড়াও শ্বশুরবাড়ির আসন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পরে রংপুরের আসনটি তিনি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেন।

টুঙ্গীপাড়ায় প্রচার শেষে বৃহস্পতিবার সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। ফেরার পথে প্রায় ১০টি পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন।

ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের মোড়, রাজবাড়ী রাস্তারমোড় (রাজবাড়ী জেলা), আরোয়া ইউনিয়ন, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ (ধামরাই) ও সাভারের জালেশ্বর মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসব পথসভা হওয়ার কথা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এই নির্বাচনী সফর নিয়ে কোটালীপাড়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “নেত্রীর আগমন উপলক্ষে সারা এলাকা এখন মুখরিত। সবাই এখন এটা নিয়েই আলোচনা করছে। কোটালীপাড়াকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।”

জনসভার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে।

১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে এ সভায় অংশ নেবে। জনসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

ভোটের প্রচারের শুরুতে টুঙ্গীপাড়ার পথে শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নিজের সংসদীয় আসন থেকে ভোটের প্রচার শুরু করতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার পথে রওনা হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতে প্রচার শুরু করছেন শেখ হাসিনা

বুধবার সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে ঢাকার গণভবন থেকে রওনা হয় শেখ হাসিনার গাড়িবহর। সড়কপথে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে গিয়ে ফেরার পথে বুধ ও বৃহস্পতিবার প্রায় একডজন জনসভা ওপথসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তার কর্মসূচিতে বলা হয়েছে, টুঙ্গীপাড়া পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

এরপর বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলা সদরে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজমাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং বেশ কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন।

টুঙ্গীপাড়া ও কোটালীপাড়া মিলিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ থেকেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ হাসিনা; এ আসন থেকে তিনি সংসদে গেছেন ছয়বার।

এবার নিজের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ ছাড়াও শ্বশুরবাড়ির আসন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে জমা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পরে রংপুরের আসনটি তিনি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেন।

টুঙ্গীপাড়ায় প্রচার শেষে বৃহস্পতিবার সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। ফেরার পথে প্রায় ১০টি পথসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন।

ভাঙ্গার মোড়, ফরিদপুরের মোড়, রাজবাড়ী রাস্তারমোড় (রাজবাড়ী জেলা), আরোয়া ইউনিয়ন, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌরসভা, রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ (ধামরাই) ও সাভারের জালেশ্বর মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এসব পথসভা হওয়ার কথা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর এই নির্বাচনী সফর নিয়ে কোটালীপাড়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “নেত্রীর আগমন উপলক্ষে সারা এলাকা এখন মুখরিত। সবাই এখন এটা নিয়েই আলোচনা করছে। কোটালীপাড়াকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।”

জনসভার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল লাখ লাখ জনতার উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে।

১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে এ সভায় অংশ নেবে। জনসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”

আরও পড়ুন-

দেখি কী হয়, খালেদাকে নিয়ে রিজভী

হাই কোর্টের বিভক্ত আদেশে খালেদা জিয়ার একাদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ঝুলে গেলেও আশা ছাড়ছে না বিএনপি।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।

মঙ্গলবার আদালতের আদেশের পর নয়া পল্টনে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। আমরা দেখি এর শেষ অবস্থা কোথায়।”

আদালতের বিভক্ত আদেশের পেছনে সরকারের ‘কারসাজি’ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানির পর মঙ্গলবার বিভক্ত আদেশ আসে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বেঞ্চে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

এখন নিয়ম অনুযায়ী এ মামলার নথিপত্র প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এখন তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

আদালতের আদেশের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “এটা সুস্পষ্টই যে, পেছনে সরকার কলকাঠি নাড়ছে। নাহলে দ্বিধা-বিভক্ত রায় হবে কেন?”

রিজভী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যেকোনো আসন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দাঁড়াবেন এবং বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াবেন। আমি চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের বলতে পারি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে ভোট পাবেন তার এক তৃতীয়াংশও শেখ হাসিনা পাবেন না।

“সেই কারণে আজকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে যে বিলম্ব ঘটানো- এটা সরকারের কারসাজি, তাদেরই ইঞ্জিনিয়ারিং।”

প্রতীক বরাদ্দের পর জামালপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের প্রচ্ছন্ন সমর্থনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। এছাড়া চাঁদুপর, ঢাকা নগর উত্তর ও দক্ষিণ, টাঙ্গাইল, ভোলা, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে সোমবার গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকাও দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নতুনে ভরসা বিএনপির

মামলা ও গ্রেপ্তার–আতঙ্কে গতকাল প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনে বিএনপির প্রার্থীরা ছিলেন অনেকটা ম্রিয়মাণ। প্রতীক পেয়েই বিক্ষিপ্তভাবে কিছু জায়গায় মিছিল ছাড়া সারা দেশে তেমন উৎসাহের সঙ্গে প্রচারণায় নামেননি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।

গতকাল প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর) সহসভাপতি আবদুল আলী নকীকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নোয়াখালীর কবিরহাট ও নাটোরের লালপুরে ধানের শীষের প্রচার-গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে বিএনপির প্রার্থী ইসহাক চৌধুরীর বাড়িতে বৈঠক করার সময় পুলিশ ঘেরাও করে ১৫ জনকে আটক করেছে।

বিএনপি অনেক আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছে, নির্বাচনে এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। ‘গায়েবি’ মামলায় গ্রেপ্তার, হয়রানিসহ নানামুখী চাপের ভেতরে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ অবস্থায় ধরপাকড় নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।

বিএনপির সূত্র জানায়, সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা আ স ম আবদুর রব, আবদুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল আউয়াল মিন্টু কাল সিলেটে যাবেন। তাঁরা সিলেট সদরসহ ফিরতি পথে তিনটি সভা করতে পারেন।

এদিকে ৩০০ আসনে নিজ দল ও দুই মিত্র জোটের কিছু মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ-অসন্তোষ আছে বিএনপিতে। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনা এখন দলের নতুন প্রার্থীদের নিয়ে।

দলটির প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবার ভোটযুদ্ধে বিএনপির ভরসার বড় জায়গায় রয়েছে তৃণমূলের একঝাঁক তরুণ ও নতুন মুখ। যার সংখ্যা বিএনপির দলগত মোট প্রার্থীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি। যদিও অনেক নতুন প্রার্থী নিয়ে দলে সমালোচনাও আছে।

বিশেষ করে ঢাকা মহানগরী, চট্টগ্রামসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু আসনে বিতর্কিত ও দুর্বল প্রার্থী দেওয়া নিয়ে কথা উঠেছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর অন্তত চারটি আসনের প্রার্থী নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা সমালোচনার মুখে আছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে অন্তত পাঁচটি আসনের (২,৪, ৬,৮ ও ১২) প্রার্থী নিয়েও বিতর্ক আছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-৮ আসনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানকে বাদ দিয়ে তাঁর জায়গায় চট্টগ্রাম মহানগরীর নেতা আবু সুফিয়ানের মনোনয়নে দলের অনেকে বিস্মিত হয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০–দলীয় জোটের শরিকদের ৬০টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। ২৪০ টিতে বিএনপির যে প্রার্থী তালিকা, তাতে দেখা যায়, ৮৯টি আসনের প্রার্থী একেবারেই নতুন মুখ। তাঁরা এর আগে কখনো সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এঁদের বড় অংশ অপেক্ষাকৃত তরুণ। এবার প্রয়াত এবং বিভিন্ন কারণে প্রার্থী হতে না–পারা নেতাদের কারও কারও স্ত্রী-সন্তানদেরও প্রার্থী করা হয়েছে।

বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সব নির্বাচনেই থাকে। তবে এবার বিএনপি প্রার্থী মনোনয়নে মাঠপর্যায়ের ‘ত্যাগী’ নেতাদের ব্যাপারে উদার ছিল। যে কারণে নতুন মুখের সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে বিএনপির উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতা এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতাও আছেন। যেমন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদারকে প্রার্থী করা হয়েছে মাদারীপুর-৩ আসনে। ঢাকা মহানগর যুবদলের দক্ষিণ শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে খালেদা জিয়ার আসনে (ফেনী-১)। তারুণ্য এবং আন্দোলনের সময় ঢাকায় তাঁর ভূমিকাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে মনোনয়ন–প্রক্রিয়ায় জড়িত এক নেতা জানান।

আবার ঢাকায় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বা যশোরে সদ্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের ছেলে অনিন্দ্য ইসলামের মতো অন্তত ৩০ জনকে প্রার্থী করা হয়েছে, যাঁরা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের স্ত্রী-সন্তান বা আত্মীয়। একজন শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হজরত আলীর মেয়ে সানসিলা জেবরিনকে শেরপুর-১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে বাবার মনোনয়ন বাতিল হলে তিনি প্রার্থী হন। পেশায় চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন নিজেকে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ বলে দাবি করেছেন।

ঢাকায় দুর্বল প্রার্থী
ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের মধ্যে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ১০ টিতে,৫টি ছেড়েছে ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের চার শরিক দলকে। এর মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা আছে। জোটের প্রার্থীদেরও অপেক্ষাকৃত দুর্বল মনে করা হচ্ছে। ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম আরা বেগম, ঢাকা-১২ আসনে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম, ঢাকা-১৬ আসনে আহসান উল্লাহ হাসান। এই তিনজনের মধ্যে শামীম আরা সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুমের স্ত্রী। কাইয়ুম রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক, দেশের বাইরে আছেন। তাঁর স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে কথা উঠেছে। সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে। আহসান উল্লাহ হাসানও অনেকগুলো মামলার আসামি, তাঁকে সচরাচর জনসমক্ষে দেখা যায় না।

এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনটি জামায়াতে ইসলামী, ঢাকা-১৭ আসনটি বিজেপি, ঢাকা-৬ ও ৭ গণফোরামকে দেওয়া হয়। ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি এর আগে কখনো নির্বাচন করেননি, প্রার্থী হিসেবেও তেমন পরিচিত নন। ঢাকা-৬ আসনে সাদেক হোসেন খোকার বিশেষ প্রভাব আছে। তাঁর ছেলে ইশরাক হোসেনকে বাদ দিয়ে গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটা স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মন থেকে মানতে পারছেন না।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এবং ঢাকা-১৭ আসন বিজেপির আন্দালিব রহমানকে ছেড়ে দেওয়া নিয়েও বিএনপির নেতাদের মধ্যে নানা কথা আছে। তবে এই দুজন জোটের শীর্ষ নেতা হওয়ায় এ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলছেন না।

ঢাকার মনোনয়নে দুর্বলতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০-দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের কারণে আমাদের আপস করতে হয়েছে। এটা তো অস্বীকার করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির যে প্রার্থী মনোনয়ন, তাতে এবার নবীন, নারী প্রার্থী এবং দুর্দিনে দলের ত্যাগী নেতাদের সংখ্যা বেড়েছে। আমি তো মনে করি, এবার মনোনয়ন অনেক ভালো হয়েছে। প্রবীণদের পাশাপাশি অনেক ভালো মুখও এসেছে।’

এখন যুক্তফ্রন্টের মুখে ‘ধাপে ধাপে ভারসাম্য’ আনার কথা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জোটগুলোর মধ্যে ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আনা এবং জোটে পর্যাপ্ত আসন পাওয়ার বিষয়টি এবার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। বিশেষ করে বিকল্পধারা বাংলাদেশ ‘ক্ষমতার ভারসাম্যের রাজনীতি’ কথাটিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। তবে আসনপ্রাপ্তিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় কেউই সুবিধা করতে পারেনি।

মহাজোটে যোগ দিয়ে তিনটি আসনে ছাড় পাওয়া বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট এখন বলছে, তারা ধাপে ধাপে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আসবে। যদিও বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার শর্ত দিয়েছিল এই জোট।

প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়। বিএনপির নেতৃত্বে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে একটি সরকারবিরোধী জোট গঠন করার আলোচনা শুরু হয়।

তাতে আগে থেকেই জোটভুক্ত হওয়া বিকল্পধারা বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি মিলে যুক্তফ্রন্ট এ আলোচনায় শামিল হয়। সঙ্গে যোগ দেয় গণফোরাম। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রথম দিকে থাকলেও তারা মহাজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালায়। অবশ্য পরে তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকেই যায়।

চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এসে বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি ও গণফোরামের একাধিক বৈঠক হয়। বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে এবং দলের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরীও কোনো একটি দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে চায় না বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এই দলগুলোর মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জোট গঠন করতে বিকল্পধারা বিএনপিকে ১৫০ এবং অন্য শরিকদের জন্য ১৫০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার আগাম সমঝোতা চেয়ে বসে।

ক্ষমতায় গেলে যেন ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আসে, সেটাই ছিল এই দাবি করার পেছনে মূল কারণ। অবশ্য এই দাবির সঙ্গে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ারও শর্ত দেয় যুক্তফ্রন্ট।

গত ১৩ অক্টোবর বিকল্পধারাকে ছাড়াই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাকি দলগুলো মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। সেদিন বি. চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘একটি পদ্ধতি করতে চেয়েছিলাম, যার মাধ্যমে একটি দল ১৫০ আসনের বেশি পাবে না।

৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টি আসন সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। তার ফলে ক্ষমতাসীন সেই দলের সঙ্গে যারা আছে, তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে পরামর্শ করে দেশ চলবে এবং তাদের দল একা স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না।

এটা ছিল আমাদের প্রপোজাল। এটার নাম ছিল ভারসাম্যের রাজনীতি। এটা কোনো কঠিন বিষয় না।’ মাহী বি. চৌধুরী বলেছিলেন, বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

যুক্তফ্রন্ট এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে এসেছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে এবার তিনটি আসন পেয়েছে তারা।

তবে ২০টি আসনে তারা কুলা প্রতীকেও প্রার্থী ঘোষণা করে। মহাজোট থেকে তিনটি আসন পাওয়ায় যুক্তফ্রন্টের ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা জায়গায় তাদের নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এ ব্যাপারে বিকল্পধারা প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য একটি প্রক্রিয়া। এটাতে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এটা একটা লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ধাপে ধাপে এগোনোর বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।’

তিনি জানান, দেশের মানুষ ভারসাম্য দেখতে চায়। শুধু আসন না, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য মূল বিষয়। সেটা সংখ্যা বা কাঠামো দিয়েও হতে পারে। এ ছাড়া জানান, তাঁদের ইশতেহারে এ বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসনের ব্যাপারে ভারসাম্যের বিষয় না থাকলেও তাদের ১১টি লক্ষ্যের প্রথমটিতে বলা হয়েছে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এ বিষয়ে তাদের ইশতেহারেও ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের জন্য ২০টি আসন ছেড়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারসাম্যের রাজনীতির বিষয় আমরা আনিনি। এটা বিকল্পধারা বলেছিল। আমরা চেয়েছিলাম, ৩০০ আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হবে।

সবাইকে বিজয়ী করে আনতে হবে। ঢাকা-৬ আসনের এই প্রার্থী বলেন, বিএনপি নিজেদের এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে উদারতা দেখিয়েছে। এটা ঐক্যের সৌন্দর্য।’

রাস্তা-ঘাট, পাড়ায়-মহল্লায় ভোটের মাঠে নামুন : ড. কামাল

ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন ভোট দিতে পারি, আসুন আমরা সবাই উঠেপড়ে এই কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। আজ থেকেই, এখান থেকেই শুরু করুন- “আমার ভোট আমি দেব, সংবিধান অনুযায়ী দেব”। যেখানেই থাকেন রাস্তা-ঘাট, পাড়ায়-মহল্লায় নেমে পড়ুন।’ সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদের আয়োজনে ‘রাজনীতি ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন ড. কামাল।

ড. কামাল হোসেন বলেন, গণতন্ত্রকে আবার ফিরিয়ে আনতে হলে দেশের মালিক জনগণকে তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে হবে। এটা সংবিধানে লেখা আছে। দেশের মালিক ১৮ কোটি মানুষ। নাগরিক হিসেবে এই মালিকানা জনগণকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জনগণের উদ্দেশে ড. কামাল বলেন, ‘ভোট চাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না। ভোট দিতে না পারার মানে হচ্ছে স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলা। মালিকানা ভোগ করার জন্য আমাদের সংঘবদ্ধ হতে হবে। তাহলে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না।’ পাড়ায়-মহল্লায় ও ভোটকেন্দ্রে সোচ্চার হওয়ার জরালো আহ্বান জানান তিনি।

২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যান তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. কামাল। এসব ঘটনায় সরকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া আহ্বান জানান ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নুরুল হুদা মিলু চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও নির্বাহী পরিচালক তালুকদার মনিরুজ্জামানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, সাবেক সচিব এ এইচ এম মোফাজ্জল করীম, মানবাধিকার ফেডারেশনের সভাপতি ড. মো. শাহজাহান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন-

এখন যুক্তফ্রন্টের মুখে ‘ধাপে ধাপে ভারসাম্য’ আনার কথা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জোটগুলোর মধ্যে ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আনা এবং জোটে পর্যাপ্ত আসন পাওয়ার বিষয়টি এবার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। বিশেষ করে বিকল্পধারা বাংলাদেশ ‘ক্ষমতার ভারসাম্যের রাজনীতি’ কথাটিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। তবে আসনপ্রাপ্তিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় কেউই সুবিধা করতে পারেনি।

মহাজোটে যোগ দিয়ে তিনটি আসনে ছাড় পাওয়া বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট এখন বলছে, তারা ধাপে ধাপে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আসবে। যদিও বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার শর্ত দিয়েছিল এই জোট।

প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়। বিএনপির নেতৃত্বে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে একটি সরকারবিরোধী জোট গঠন করার আলোচনা শুরু হয়।

তাতে আগে থেকেই জোটভুক্ত হওয়া বিকল্পধারা বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি মিলে যুক্তফ্রন্ট এ আলোচনায় শামিল হয়। সঙ্গে যোগ দেয় গণফোরাম। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রথম দিকে থাকলেও তারা মহাজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালায়। অবশ্য পরে তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকেই যায়।

চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এসে বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি ও গণফোরামের একাধিক বৈঠক হয়। বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে এবং দলের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরীও কোনো একটি দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে চায় না বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এই দলগুলোর মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জোট গঠন করতে বিকল্পধারা বিএনপিকে ১৫০ এবং অন্য শরিকদের জন্য ১৫০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার আগাম সমঝোতা চেয়ে বসে।

ক্ষমতায় গেলে যেন ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আসে, সেটাই ছিল এই দাবি করার পেছনে মূল কারণ। অবশ্য এই দাবির সঙ্গে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ারও শর্ত দেয় যুক্তফ্রন্ট।

গত ১৩ অক্টোবর বিকল্পধারাকে ছাড়াই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাকি দলগুলো মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। সেদিন বি. চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘একটি পদ্ধতি করতে চেয়েছিলাম, যার মাধ্যমে একটি দল ১৫০ আসনের বেশি পাবে না।

৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টি আসন সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। তার ফলে ক্ষমতাসীন সেই দলের সঙ্গে যারা আছে, তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে পরামর্শ করে দেশ চলবে এবং তাদের দল একা স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না।

এটা ছিল আমাদের প্রপোজাল। এটার নাম ছিল ভারসাম্যের রাজনীতি। এটা কোনো কঠিন বিষয় না।’ মাহী বি. চৌধুরী বলেছিলেন, বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

যুক্তফ্রন্ট এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে এসেছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে এবার তিনটি আসন পেয়েছে তারা।

তবে ২০টি আসনে তারা কুলা প্রতীকেও প্রার্থী ঘোষণা করে। মহাজোট থেকে তিনটি আসন পাওয়ায় যুক্তফ্রন্টের ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা জায়গায় তাদের নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এ ব্যাপারে বিকল্পধারা প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য একটি প্রক্রিয়া। এটাতে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এটা একটা লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ধাপে ধাপে এগোনোর বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।’

তিনি জানান, দেশের মানুষ ভারসাম্য দেখতে চায়। শুধু আসন না, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য মূল বিষয়। সেটা সংখ্যা বা কাঠামো দিয়েও হতে পারে। এ ছাড়া জানান, তাঁদের ইশতেহারে এ বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসনের ব্যাপারে ভারসাম্যের বিষয় না থাকলেও তাদের ১১টি লক্ষ্যের প্রথমটিতে বলা হয়েছে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এ বিষয়ে তাদের ইশতেহারেও ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের জন্য ২০টি আসন ছেড়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারসাম্যের রাজনীতির বিষয় আমরা আনিনি। এটা বিকল্পধারা বলেছিল। আমরা চেয়েছিলাম, ৩০০ আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হবে।

সবাইকে বিজয়ী করে আনতে হবে। ঢাকা-৬ আসনের এই প্রার্থী বলেন, বিএনপি নিজেদের এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে উদারতা দেখিয়েছে। এটা ঐক্যের সৌন্দর্য।’

২৭ বছর পর নৌকা থেকে ধানের শীষে

১৯৯১ সালে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েছিলেন এ এইচ এম খালেকুজ্জামান। ওই নির্বাচনে ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন তিনি। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নান্দাইলের খুররম খান চৌধুরী সাংসদ নির্বাচিত হন। বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবেদীন দ্বিতীয় হয়েছিলেন।

২৭ বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে এ এইচ এম খালেকুজ্জামান ভোটে দাঁড়িয়েছেন। এবার তিনি ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন। লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। কিন্তু জোটের রাজনীতির কারণে এবারের নির্বাচনে ঈশ্বরগঞ্জ আসনে নৌকা প্রতীক অনুপস্থিত। নৌকার বদলে মহাজোট থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) বর্তমান সাংসদ ফখরুল ইমাম।

খালেকুজ্জামানের হলফনামায় দেখা যায়, তাঁর বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জের জাটিয়া ইউনিয়নের টাঙ্গনগাতী গ্রামে। তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। তাঁর ছোট ভাই মো. আবদুর রাশিদ ভূঁইয়া বলেন, পেশাগত কারণে তাঁর ভাই গ্রামের বাড়িতে খুব বেশি একটা যান না।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারুয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কাঁচাপাকা সড়ক ধরে টাঙ্গনগাতী গ্রামে যাওয়ার পথে দরগাপাড়া মোড়ে কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে কথা হয়। শহর আলী (৫৫) নামে এক রিকশাচালক বলেন, গত শনিবার রাতে তাঁরা জানতে পেরেছেন টাঙ্গনগাতী গ্রামের উকিল সাহেব (খালেকুজ্জমান) ভোটে দাঁড়িয়েছেন।

পাশের ঘাঘড়াপাড়া চৌরাস্তা মোড়ের এক চায়ের দোকানে কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। বিএনপির রাজনীতি করেন, এমন প্রায় ১০-১২ জন ভোটার জানান, ভাই, রাজনীতি করলাম ঈশ্বরগঞ্জ বিএনপির নেতা লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ভাইকে নিয়ে। এখন শুনছি তাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলাম। মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছি। এখন বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্নে এ আসনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে এইচ এম খালেকুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে। দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীকে নিয়েই আমরা নির্বাচনী মাঠে থাকব। এখন তিনি আমাদেরই প্রার্থী।’

আরও পড়ুন-

এখন যুক্তফ্রন্টের মুখে ‘ধাপে ধাপে ভারসাম্য’ আনার কথা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জোটগুলোর মধ্যে ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আনা এবং জোটে পর্যাপ্ত আসন পাওয়ার বিষয়টি এবার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। বিশেষ করে বিকল্পধারা বাংলাদেশ ‘ক্ষমতার ভারসাম্যের রাজনীতি’ কথাটিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল। তবে আসনপ্রাপ্তিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় কেউই সুবিধা করতে পারেনি।

মহাজোটে যোগ দিয়ে তিনটি আসনে ছাড় পাওয়া বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট এখন বলছে, তারা ধাপে ধাপে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আসবে। যদিও বিএনপির সঙ্গে জোটে যেতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার শর্ত দিয়েছিল এই জোট।

প্রতিবারের মতো এবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়। বিএনপির নেতৃত্বে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে একটি সরকারবিরোধী জোট গঠন করার আলোচনা শুরু হয়।

তাতে আগে থেকেই জোটভুক্ত হওয়া বিকল্পধারা বাংলাদেশ, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি মিলে যুক্তফ্রন্ট এ আলোচনায় শামিল হয়। সঙ্গে যোগ দেয় গণফোরাম। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ প্রথম দিকে থাকলেও তারা মহাজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালায়। অবশ্য পরে তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকেই যায়।

চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এসে বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি ও গণফোরামের একাধিক বৈঠক হয়। বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে এবং দলের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরীও কোনো একটি দলকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ক্ষমতায় বসাতে চায় না বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এই দলগুলোর মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জোট গঠন করতে বিকল্পধারা বিএনপিকে ১৫০ এবং অন্য শরিকদের জন্য ১৫০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার আগাম সমঝোতা চেয়ে বসে।

ক্ষমতায় গেলে যেন ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আসে, সেটাই ছিল এই দাবি করার পেছনে মূল কারণ। অবশ্য এই দাবির সঙ্গে বিএনপিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়ারও শর্ত দেয় যুক্তফ্রন্ট।

গত ১৩ অক্টোবর বিকল্পধারাকে ছাড়াই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাকি দলগুলো মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। সেদিন বি. চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘একটি পদ্ধতি করতে চেয়েছিলাম, যার মাধ্যমে একটি দল ১৫০ আসনের বেশি পাবে না।

৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টি আসন সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। তার ফলে ক্ষমতাসীন সেই দলের সঙ্গে যারা আছে, তাদের সঙ্গে ভবিষ্যতে পরামর্শ করে দেশ চলবে এবং তাদের দল একা স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না।

এটা ছিল আমাদের প্রপোজাল। এটার নাম ছিল ভারসাম্যের রাজনীতি। এটা কোনো কঠিন বিষয় না।’ মাহী বি. চৌধুরী বলেছিলেন, বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা তাঁদের নেই।

যুক্তফ্রন্ট এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে এসেছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে এবার তিনটি আসন পেয়েছে তারা।

তবে ২০টি আসনে তারা কুলা প্রতীকেও প্রার্থী ঘোষণা করে। মহাজোট থেকে তিনটি আসন পাওয়ায় যুক্তফ্রন্টের ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা জায়গায় তাদের নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এ ব্যাপারে বিকল্পধারা প্রেসিডিয়াম সদস্য শমসের মবিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্ষমতার ভারসাম্য একটি প্রক্রিয়া। এটাতে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এটা একটা লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ধাপে ধাপে এগোনোর বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে।’

তিনি জানান, দেশের মানুষ ভারসাম্য দেখতে চায়। শুধু আসন না, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য মূল বিষয়। সেটা সংখ্যা বা কাঠামো দিয়েও হতে পারে। এ ছাড়া জানান, তাঁদের ইশতেহারে এ বিষয়টি উল্লেখ থাকবে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে আসনের ব্যাপারে ভারসাম্যের বিষয় না থাকলেও তাদের ১১টি লক্ষ্যের প্রথমটিতে বলা হয়েছে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এ বিষয়ে তাদের ইশতেহারেও ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের জন্য ২০টি আসন ছেড়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারসাম্যের রাজনীতির বিষয় আমরা আনিনি। এটা বিকল্পধারা বলেছিল। আমরা চেয়েছিলাম, ৩০০ আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হবে।

সবাইকে বিজয়ী করে আনতে হবে। ঢাকা-৬ আসনের এই প্রার্থী বলেন, বিএনপি নিজেদের এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে উদারতা দেখিয়েছে। এটা ঐক্যের সৌন্দর্য।’